(পর্ব-২) মনের মিলন – বাংলা কমিক্স – Moner Milon – Bangla Comics

মনের মিলন বাংলা কমিক্স পর্ব-২ পাবেন শুধুমাত্র Golpoz.com ওয়েবসাইটে!! Moner Milon Bangla Comics Part-2 পড়ুন সম্পূর্ণ ফ্রি!! অসাধারণ এক সাইন্স ফিকশন গল্পের কমিক্স..

মনের মিলন বাংলা কমিক্স (পর্ব-২)

নোহা: আমার সাথে চলুন.. ড. সোফিয়া পাঠয়েছে আমাকে..

রাহাত: ঠিকাছে.. চলো..

রাহাত: আরে.. চোখ বাঁধাছো কেনো??

নোহা: ৩০ বছর গোয়েন্দা বাহিনীতে চাকরি করেও আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন স্যার??

রাহাত: হা হা হা..

নোহা: স্যার.. প্লিজ.. সাবধানে হাঁটবেন.. পড়ে গেলে ব্যথা পেতে পারেন..

রাহাত: চিন্তা করো না.. চোখ বাঁধা অবস্থায় হাঁটার অভ্যাস আছে..

রাহাত: বিষয়টা কি খুবই গোপনীয়??

নোহা: এতোটাই গোপনীয় যে.. গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান নিজেও কিছু জানেন না!!

রাহাত: তাই নাকি!!

নোহা: স্যার.. আমাকে বলা হয়েছে আপনাকে এখানে পৌঁছে দিতে.. সামনে আপনাকে একাই যেতে হবে..

(রাহাত) এত গোপনীয়তা!! নিশ্চয়ই ভয়ংকর কিছু আবিষ্কার হয়েছে..

রাহাত: নাকে যে গন্ধ পাচ্ছি.. মনেহচ্ছে সামনে কোনো গবেষণাগার.. এভাবে চোখ বাঁধা অবস্থায় আর কতক্ষণ থাকতে হবে!! কেউ কি আছেন??

সোফিয়া: রাহাত সাহেব.. এখানে চলে আসুন.. আর একটু.. সামনে..

রাহাত: ড. সোফিয়া!!

সোফিয়া: কন্ঠ শুনেই চিনে ফেলেছেন..

রাহাত: ড. সোফিয়া.. কেনো এতো গোপনীয়তা?? এমন কি আবিস্কার করেছো??

সোফিয়া: ব্যাপারটা বুঝে ফেলেছেন তাহলে.. ভেতরে চলুন.. বলছি..

রাহাত: কোনো মারণাস্ত্র?? কোনো ক্যামিক্যাল??

সোফিয়া: এর চেয়েও ভয়ংকর কিছু..

রাহাত: চোখ থাকতেও অন্ধ আমি..

সোফিয়া: হি হি হি.. খুলে দিচ্ছি..

(এলিয়েন) নতুন মানুষ..

সোফিয়া: আমার একজন বয়স্ক মানুষ লাগবে.. যার উপরে রিসার্চ করা হবে..

রাহাত: জীবনের ঝুঁকি আছে.. তাই না??

সোফিয়া: হ্যা!! হয়তো সে মারা যেতে পারে..

রাহাত: হা হা হা.. আমাকে তাহলে জীবত মানুষ এনে দিতে হবে.. যে বাঁচবে কিনা সেটা অনিশ্চিত!! জীবিত এলিয়েন নিয়ে রিসার্চ করে বুঝি মন ভরেনি তোমার?? মানুষের থেকে দূরেই থাকো.. মানুষ কিন্তু ভয়ংকর প্রাণী!!

সোফিয়া: আপনাকে আমার রিসার্চ রেজাল্ট গুলো দিচ্ছি.. একটু চেক করে দেখুন তো..

রাহাত: এলিয়েনের রক্ত প্রানীদের শরীরে প্রবেশ করানোর পরে প্রানীদের বয়স কমে গেছে!! অসম্ভব.. এটা হতে পারে না!! মানুষের শরীরে এলিয়েনের রক্ত প্রবেশ করালে বিপদে পরবে..

সোফিয়া: বিপদ যে হতে পারে.. সেটা তো বুঝতেই পারছি.. কিন্তু রিসার্চ তো চালিয়ে যেতেই হবে.. জীবিত.. বয়স্ক মানুষ লাগবে..

রাহাত: ড. সোফিয়া.. আমি তোমার রিসার্চের অংশ হতে চাই..

সোফিয়া: মানে কি?? অসম্ভব.. আমি এটা করতে পারবো না!!

রাহাত: একবার ভেবে দেখো.. আমি স্বেচ্ছায় রাজি হচ্ছি.. তোমাকে কোনো আইনি জটিলতায় পরতে হবে না!!

সোফিয়া: ঠিকাছে.. কিন্তু আপনার মতো একজন দক্ষ গোয়েন্দাকে আমি হারাতে চাই না!!

(সোফিয়া) চেষ্টা করবো যেনো রাহাত সাহেবের কোনো ক্ষতি না হয়!! জানি না কি হতে যাচ্ছে..

রাহাত: ড. সোফিয়া.. নিজেকে শক্ত রাখো..

সোফিয়া: আপনাকে নিয়ে রিসার্চ করবো.. এটা ভেবেই আমার হাত কাঁপছে..

রাহাত: নিজের ভেতরে অদ্ভুত এক শক্তি অনুভব করছি!!

সোফিয়া: আপনি ঠিক আছেন??

রাহাত: কিছু একটা হচ্ছে আমার ভেতরে.. আর পারছি না..

সোফিয়া: আমাকে খুলে বলুন.. কেমন লাগছে আপনার??

রাহাত: আমি নিজেই বুঝতে পারছি না!! ব্যথা নেই.. কষ্ট নেই.. তবুও কেমন যেনো লাগছে!!

(সোফিয়া) রাহাত সাহেব কি এমন কিছু অনুভব করছে.. যেটা কোনো মানুষ অনুভব করতে পারে না!!

সোফিয়া: কেমন লাগছে আপনার??

রাহাত: জানি না!! বুঝতে পারছি না.. এ কেমন অনুভূতি!! না ব্যথা.. না কষ্ট..

সোফিয়া: কেমন লাগছে আপনার?? রাহাত সাহেব..

রাহাত: আমি ঠিকাছি!! কিন্তু..

রাহাত: আমি বুঝতেই পারছি না আমার কেমন লাগছে..

(সোফিয়া) রাহাত সাহেবের চেহারা তো পরিবর্তন হয়ে গেছে!!

সোফিয়া: রাহাত সাহেব!! আপনার মুখটা..

রাহাত: কি হয়েছে আমার মুখে??

সোফিয়া: একটু দয়া করে আয়নায় গিয়ে দেখুন..

রাহাত: এটা কি আমি?? বিশ্বাস হচ্ছে না!!

সোফিয়া: হ্যা.. আপনি ই তো..

রাহাত: এ কি!! আমার বয়স কি সত্যিই কমে গেছে??

সোফিয়া: হ্যা!! কমে গেছে..

সোফিয়া: আমার গবেষণা সফল!!

রাহাত: ড. সোফিয়া.. মাথাটা.. কেমন যেনো.. ঘুরাচ্ছে..

(সোফিয়া) হায়.. হায়.. অজ্ঞান হয়ে গেলো!!

সোফিয়া: ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন..

রাহাত: আমি নিজেই তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম..

রাহাত: আমি কি এখন বাইরে যেতে পারবো??

সোফিয়া: অবশ্যই.. তবে আপনার একটা নতুন পরিচয় লাগবে..

রাহাত: নতুন পরিচয় লাগবে!! এতোটা পরিবর্তন হয়ে গেছি আমি?? তার মানে ফাইজা আর আমাকে চিনতে পারবে না!! ঝামেলায় পরে গেলাম..

সোফিয়া: নতুন জীবনে স্বাগতম!! তা.. আপনার.. নতুন নাম.. কি রাখবেন ভেবেছেন??

রাহাত: আমার আগের পরিচয়ই থাকবে..

সোফিয়া: হা হা হা.. পুরানো পরিচয়ে চলতে পারলে.. চলুন.. মারধর.. না খেলে হয়!! হি হি হি.. এখন আপনি যেতে পারেন.. বিপদে পরলে বলবেন.. Code 31..

রাহাত: আশেপাশে কেউ আছে মনেহচ্ছে!! যদিও সমস্যা নেই.. বাইরের কেউ ঢুকতেই পারবে না!! এখানে সব আমাদের লোক..

নোহা: এই.. কে তুই?? এখানে কি করছিস??

রাহাত: আরে আজব!! আমাকে চিনতে পারছো না?? আমি রাহাত..

নোহা: তুই রাহাত স্যার?? নাটক করছিস??

রাহাত: আরে.. দাঁড়াও..

Moner Milon Bangla Comics (Part-2)

দ্বিতীয় পর্বে Moner Milon Bangla Comics এর টান-টান উত্তেজন সবার মন জয় করে নিতে বাধ্য! প্রথমেই এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে.. ড. সোফিয়া রাহাত সাহেবকেই ফোন করেছিলো, আর তাকে নেয়ার জন্যই লোক পাঠিয়েছে..

অবশেষে আমরা রাহাত সাহেবের সম্পর্কে অনেকটা পরিষ্কার ধারণা পেয়ে গেছি.. সে গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করছে.. ১/২ বছর নয়.. ৩০ টা বছর গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করেছে রাহাত সাহেব..

যেই মেয়েটাকে পাঠানো হয়েছে রাহাত সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, সেই মেয়েটাও গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করে.. আর সে রাহাত সাহেবকে অনেক সম্মান করছে.. এমনকি এক পর্যায়ে এটাও বলেছে যে, গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করে রাহাত সাহবেকে চেনে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল!

তার মানে রাহাত সাহেব কোনো সাধারণ গোয়েন্দা না.. সে হয়তো এতোটাই জনপ্রিয় যে তার নাম সবার মুখে মুখে.. এদিকে ড. সোফিয়ার মতো একজন বড় মাপের বিজ্ঞানী যখন তার গোপন গবেষণার কাজে সাহায্য করার জন্য রাহাত সাহেবকে বিশ্বাস করেছে.. যেখানে গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান নিজেও কিছু জানে না, তখন এটা খুব সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছে যে রাহাত সাহেবকে সবাই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে!!

এখন আসল ঘটনায় চলে আসি.. এখানে ড. সোফিয়ার যেহেতু একজন জীবিত মানুষ দরকার, যার বয়স বেশি হবে, যার উপর সে রিসার্চ করবে, সেই জন্য সে রাহাত সাহাবের সাহায্য নিতে চাইছে.. কারন হচ্ছে, মানুষের উপর গবেষণা করা অবশ্যই এতো সহজ না, যেখানে সেই মানুষটার জীবনের ঝুঁকি থাকে!

তবে রাহাত সাহেব মজার করে ড. সোফিয়াকে বলেছিলো যে সে যেনো মানুষের থেকে দূরেই থাকে.. মানুষ অনেক ভয়ংকর প্রাণী! কিন্তু ড. সোফিয়া কে তো তার রিসার্চ চালিয়ে যেতেই হবে, আর এর জন্য তার জীবিত বয়স্ক মানুষ দরকার!

এখানে বয়স নিয়ে রিসার্চ করা হচ্ছে.. এলিয়েনর রক্ত মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর মতো বিপদজনক গবেষণা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে.. তবুও রাহাত সাহেব নিজের উপরে রিসার্চ করতে দেয়ার জন্য রাজি হয়ে গেছে! এর কারন হচ্ছে, রাহাত সাহেব নিজেও চায় তার বয়স কমাতে..

ফাইজা তাকে বিয়ে করতে চাইছো না, কারন তার বয়স বেশি, হয়তো সে জীবনের এই শেষ সময়ে একটা রিস্ক নিয়ে নিজের বয়স কমাতে চায়! আর হয়তো সেটা শুধুমাত্র ফাইজার মন জয় করার জন্যই, কারন অবশেষে যখন আসলেই রাহাত সাহেবের বয়স কমে যায়, তখন সে প্রথমেই ভেবেছিলো, ফাইজা তাকে চিনতে পারবে কিনা, সেই ব্যাপারটা!

ড. সোফিয়ার একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? সে কিন্তু এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করছে! আপনারা কি বুঝতে পারছেন সে যে কতো বড় মাপের একজন বিজ্ঞানী? আর রাহাত সাহেব তো অবাক করে দিয়েছে! ড. সোফিয়ার মতো বিজ্ঞানী তাকে যেহেতু চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছে, তার মানে রাহাত সাহেব হয়তো অনেকবার নিজের সততার পরিচয় দিয়েছে এর আগে!

শেষে কিন্তু একটা মজার ঘটনা ঘটে গেলো! সেই মেয়ে গোয়েন্দা নোহা কিন্তু আর এখন রাহাত সাহবকে চিনতে পারছে না! নোহার মতো গয়েন্দা ও যখন রাহাতকে চিনতে পারছে না, বুঝতেই পারছেন, রাহাত সাহেবের চেহারা যে কতোটা পরিবর্তন হয়েছে! এখন দেখার বিষয় ফাইজার সাথে কি ঘটবে! গল্প কিন্তু মজাদার হতে চলেছে!